Dec 28, 2024

Coochbehar palace history and how to reach there

 কোচবিহার প্যালেস 

Coochbeher palace 

কুচবিহার প্যালেস 


কোচবিহার প্যালেস, যা রাজবাড়ি নামেও পরিচিত, পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। এটি কোচবিহারের রাজাদের শাসনকালে নির্মিত এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিখ্যাত পর্যটনস্থল। রাজবাড়িটি ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত হয়, যার নকশা প্রভাবিত হয়েছিল ইউরোপীয় ইতালীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীতে। প্রাসাদটি তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশের ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যধারার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।  


রাজবাড়ির স্থাপত্যশৈলী ও এর বিশালতা এর অন্যতম আকর্ষণ। এটি লাল ইটের তৈরি একটি চারতলা প্রাসাদ, যা প্রায় ৫১,৩০৯ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ভেতরে রয়েছে রাজাদের ব্যক্তিগত বাসস্থান, মহারানীর প্রার্থনাকক্ষ, দরবার হল এবং অন্যান্য রাজকীয় কক্ষ। প্রাসাদের চতুর্দিকে রয়েছে সুশোভিত বাগান এবং বিভিন্ন ভাস্কর্য, যা একসময় রাজ্যের মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো।  

কোচবিহার প্যালেসের ইতিহাস সরাসরি কোচবিহার রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত। ১৬ শতকের শুরুতে কোচবিহার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন মহারাজা বিশ্ব সিংহ। এই রাজ্যটি প্রাচীন কামতাপুর রাজ্যের একটি অংশ ছিল এবং এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের শাসনামলে রাজবাড়িটি নির্মাণ করা হয়, যা রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 

বর্তমানে কোচবিহার রাজবাড়ি ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI)-এর অধীনে সংরক্ষিত একটি ঐতিহাসিক স্মারক। প্রাসাদটি এখন একটি সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রদর্শিত হয় প্রাচীন চিত্রকলা, মুদ্রা, অস্ত্রশস্ত্র এবং অন্যান্য রাজকীয় সামগ্রী। এটি পর্যটকদের কাছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্থাপত্যের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান।  

কোচবিহার রাজবাড়ি শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শন নয়; এটি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষী।


কোচবিহার প্যালেস বা রাজবাড়ির ভেতরে বহু দর্শনীয় স্থান এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। এই প্রাসাদটি শুধুমাত্র এর স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত নয়, এর অভ্যন্তরীন বিভিন্ন অংশও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নিচে এর উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় দিকগুলো তুলে ধরা হলো:

1. দরবার হল

- এটি রাজবাড়ির অন্যতম কেন্দ্রীয় কক্ষ, যেখানে রাজা তাঁর প্রশাসনিক বৈঠক করতেন।

- দরবার হলের ছাদ এবং দেয়ালে জটিল কারুকাজ করা আছে, যা ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব দেখায়।

- এখানে বিভিন্ন রাজকীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হতো, যা অতীতের ঐতিহ্য এবং শাসনের সাক্ষী।


২. মহারানীর প্রার্থনাকক্ষ

- মহারানীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি প্রার্থনাকক্ষ।

- এখানে রাজ পরিবারের আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো।


3. রাজাদের ব্যক্তিগত বাসস্থান

- রাজাদের শয়নকক্ষ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত কক্ষগুলি রাজকীয় জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করে।

- প্রাসাদের অভ্যন্তরের সজ্জা, আসবাবপত্র, এবং রাজাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।


৪. সংগ্রহশালা (মিউজিয়াম)

- বর্তমানে প্রাসাদটি একটি সংগ্রহশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- এখানে প্রদর্শিত হয়:

  - রাজ পরিবারের ব্যবহৃত মুদ্রা, অস্ত্রশস্ত্র, এবং রাজকীয় পাত্রাদি।

  - প্রাচীন চিত্রকলা এবং রাজাদের পোর্ট্রেট।

  - ঐতিহাসিক নথি এবং বিভিন্ন সামগ্রী, যা কোচবিহার রাজ্যের ইতিহাসের গল্প বলে।


৫. প্যালেসের ভেতরের কারুকাজ

- প্রাসাদের দেয়াল এবং ছাদে রয়েছে জটিল কারুকাজ এবং ভাস্কর্য।

- প্রতিটি ঘরে রয়েছে নকশাযুক্ত জানালা এবং দরজা, যা রাজবাড়ির স্থাপত্যশৈলীকে অনন্য করে তোলে।


 ৬. সুশোভিত বাগান

- রাজবাড়ির চারপাশে বিস্তৃত বাগান, যেখানে ফুলের শোভা এবং সবুজ পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।

- বাগানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য এবং ফোয়ারা, যা রাজকীয় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।


 ৭. ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যশৈলী

- পুরো প্রাসাদটি ভিক্টোরিয়ান এবং ইতালীয় রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত, যা এর অন্যতম আকর্ষণ।

- গোলাকার গম্বুজ, প্রশস্ত করিডোর এবং সুসজ্জিত সিঁড়ি প্রাসাদটিকে অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।

 ৮. রাজকীয় সংগ্রহ

- প্রাসাদের বিভিন্ন অংশে রাজকীয় পোশাক, গহনাপত্র, এবং অন্যান্য ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষিত রয়েছে।

- এই সংগ্রহ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোচবিহারের সমৃদ্ধ অতীতকে তুলে ধরে।

৯. ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য শিক্ষা

- প্রাসাদটি কোচবিহারের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির একটি জীবন্ত নিদর্শন।

- এটি শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, বরং শিক্ষামূলকও বটে, যেখানে ইতিহাসপ্রেমীরা রাজ পরিবারের জীবনযাত্রা এবং শাসনের ধরণ সম্পর্কে জানতে পারেন। 

১০. ভ্রমণকারীদের জন্য নির্দেশনা

- প্রাসাদের অভ্যন্তরে গাইড সুবিধা রয়েছে, যা পর্যটকদের ইতিহাস এবং স্থাপত্য সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করে।

- দর্শনার্থীরা ছবি তোলার সুযোগ পান, তবে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে ফ্ল্যাশ ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ।

কোচবিহার প্যালেস শুধু একটি প্রাসাদ নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, এবং রাজকীয় সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি ভ্রমণকারীদের জন্য এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

কিভাবে যাবেন

কোচবিহার প্যালেসে পৌঁছানোর জন্য কয়েকটি উপায় রয়েছে, যা সহজ এবং সুবিধাজনক। নিচে বিভিন্ন উপায় দেওয়া হলো:  

 ১. ট্রেনের মাধ্যমে

কোচবিহার শহরে একটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে, যা ভারতের প্রধান শহরগুলির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। আপনি কলকাতা, শিলিগুড়ি বা ভারতের অন্য যেকোনো বড় শহর থেকে ট্রেনে কোচবিহারে পৌঁছাতে পারেন।  

- কোচবিহার রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজবাড়ি খুব কাছে (প্রায় ২-৩ কিমি)। আপনি রিকশা বা ট্যাক্সি নিয়ে সরাসরি রাজবাড়িতে পৌঁছে যেতে পারবেন।  

 

২. বাসের মাধ্যমে

কোচবিহারে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি বাস পরিষেবা রয়েছে।  

- শিলিগুড়ি থেকে নিয়মিত বাস পাওয়া যায়, যা প্রায় ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে কোচবিহারে পৌঁছে দেয়।  

- কোচবিহার শহরের বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা ট্যাক্সি নিয়ে সহজেই রাজবাড়ি যেতে পারবেন।  


৩. ফ্লাইটের মাধ্যমে

কোচবিহারের নিকটতম বিমানবন্দর হল বাগডোগরা বিমানবন্দর (শিলিগুড়ি), যা প্রায় ১৪০ কিমি দূরে অবস্থিত।  

- বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে কোচবিহার যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি বা বাস পাওয়া যায়।  

৪. নিজস্ব যানবাহনে

আপনি যদি নিজের গাড়ি বা বাইক নিয়ে যাত্রা করেন, তাহলে শিলিগুড়ি থেকে জাতীয় সড়ক (NH27) ধরে কোচবিহার পৌঁছানো যাবে। রাস্তা খুব ভালো এবং যাত্রা উপভোগ্য।  

কোচবিহার শহরে পৌঁছানোর পর রাজবাড়ি খুব কাছেই অবস্থিত এবং শহরের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এটি খুঁজে পাওয়া সহজ। স্থানীয় রিকশা বা ট্যাক্সি ব্যবহার করেই আপনি সহজে পৌঁছে যেতে পারবেন।




Dec 12, 2024

মিরিক লেক (সুমেন্দু লেক), দার্জিলিং

 মিরিক লেক (সুমেন্দু লেক), দার্জিলিং




মিরিক লেক (স্থানীয়ভাবে পরিচিত সুমেন্দু লেক) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। এটি মিরিক শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং তার অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। লেকটি পাহাড়, চা বাগান, এবং পাইন বন দ্বারা বেষ্টিত, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।


ইতিহাস ও গুরুত্ব

মিরিক লেকের নাম এসেছে লেপচা ভাষার "মির-ইয়ক" শব্দ থেকে, যার অর্থ "আগুনের জায়গা।" এটি একটি কৃত্রিম লেক, যা পর্যটন উন্নয়নের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।


মিরিক লেকের আকর্ষণ

  1. লেকের সেতু: লেকটির মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর কাঠের সেতু রয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
  2. বোটিং: পর্যটকরা এখানে নৌকাবিহারের সুযোগ উপভোগ করতে পারেন।
  3. পাশের পাইন বন: লেকের চারপাশে পাইন বন রয়েছে, যা লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
  4. অশ্বারোহন: লেকের ধারে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়।
  5. বাগান ও ফুলের সৌন্দর্য: লেকের ধারে সুন্দর বাগান এবং বিভিন্ন রঙের ফুল এই স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

কীভাবে পৌঁছাবেন মিরিক লেকে

  1. বিমানপথ: মিরিকের নিকটতম বিমানবন্দর হলো বাগডোগরা বিমানবন্দর, যা প্রায় ৫২ কিমি দূরে। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে মিরিকে পৌঁছানো যায়।
  2. রেলপথ: নিকটতম রেলস্টেশন হলো নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি), যা প্রায় ৪৯ কিমি দূরে।
  3. সড়কপথ:
    • দার্জিলিং থেকে মিরিক লেকের দূরত্ব প্রায় ৪৯ কিমি
    • শিলিগুড়ি থেকে মিরিক প্রায় ৫৫ কিমি
    • গাড়ি বা বাসে সহজেই মিরিকে পৌঁছানো যায়।

সেরা সময় ভ্রমণের জন্য

মিরিক ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময় হলো মার্চ থেকে জুন এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।


উপসংহার

মিরিক লেক তার অপূর্ব সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশের জন্য একটি আদর্শ পর্যটনস্থল। প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজে পেতে এবং দার্জিলিং অঞ্চলের অপূর্ব পরিবেশ উপভোগ করতে মিরিক লেক এক অনন্য গন্তব্য।

গোপালধারা টি এস্টেট, দার্জিলিং

 গোপালধারা টি এস্টেট, দার্জিলিং:



গোপালধারা টি এস্টেট পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার অন্যতম বিখ্যাত চা-বাগান, যা দার্জিলিং চায়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এটি প্রায় ১৮৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং দার্জিলিংয়ের উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় এর চায়ের স্বাদ এবং গুণগত মান অনন্য।

অবস্থান ও উচ্চতা

  • গোপালধারা টি এস্টেট দার্জিলিংয়ের মিরিক অঞ্চলে অবস্থিত।
  • বাগানটি প্রায় ৫,৫০০ ফুট থেকে ৭,০০০ ফুট উচ্চতায় বিস্তৃত, যা একে দার্জিলিংয়ের সর্বোচ্চ চা-বাগানগুলির একটি করে তোলে।
  • এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

চায়ের বৈশিষ্ট্য

  • গোপালধারা টি এস্টেট প্রধানত উচ্চমানের দার্জিলিং অরিজিনাল টি উৎপাদন করে, যা প্রাকৃতিক মিষ্টতা এবং সুগন্ধির জন্য বিখ্যাত।
  • এখানকার চা মূলত ফার্স্ট ফ্লাশ, সেকেন্ড ফ্লাশ, এবং বিশেষ ধরনের অটামাল টি হিসেবে পরিচিত।
  • এখানে উৎপাদিত সিলভার নিডল টি এবং অরগানিক গ্রিন টি আন্তর্জাতিক বাজারেও বেশ জনপ্রিয়।

ইতিহাস ও গুরুত্ব

  • বাগানটির নামকরণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠাতা গোপালধারা-এর নামে।
  • এটি দীর্ঘ সময় ধরে দার্জিলিং চায়ের ঐতিহ্য এবং গুণমান বজায় রেখে আসছে।
  • গোপালধারা টি এস্টেট তার সাসটেইনেবল চা চাষ এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির জন্য পরিচিত।

কীভাবে পৌঁছাবেন গোপালধারা টি এস্টেটে?

  1. রেলপথ:

    • নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি (NJP), যেটি সারা ভারতের সাথে সংযুক্ত।
    • NJP থেকে গাড়ি বা ট্যাক্সিতে মিরিক হয়ে গোপালধারা পৌঁছানো যায় (প্রায় ৫০ কিমি)।
  2. বিমানপথ:

    • নিকটবর্তী বিমানবন্দর বাগডোগরা, যা গোপালধারা থেকে প্রায় ৫৫ কিমি দূরে।
    • বাগডোগরা থেকে গাড়ি বা ট্যাক্সিতে সরাসরি যাতায়াত করা সম্ভব।
  3. সড়কপথ:

    • দার্জিলিং বা সিলিগুড়ি থেকে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে মিরিক হয়ে গোপালধারা টি এস্টেটে পৌঁছানো যায়।
    • রাস্তাটি পাহাড়ি হলেও অত্যন্ত মনোরম।

পর্যটন আকর্ষণ

  • টি টেস্টিং: পর্যটকেরা এখানে এসে দার্জিলিং চায়ের বিভিন্ন রকমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন।
  • প্রকৃতি ও ফটোগ্রাফি: পাহাড়ি দৃশ্য, সবুজ চা-বাগান, এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ।
  • গাইডেড ট্যুর: চা উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য বাগানে গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা রয়েছে।

উপসংহার

গোপালধারা টি এস্টেট শুধুমাত্র একটি চা-বাগান নয়, এটি দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এবং বিশ্বমানের দার্জিলিং চায়ের প্রতীক। প্রকৃতি প্রেমী ও চা প্রেমীদের জন্য এটি একটি অবশ্য দর্শন স্থান।

Dec 11, 2024

Jhalong Bindu kivabe jaben ki ki dekhben?

 বিন্দু ব্যারেজ হল একটি সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ স্থান, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কালিমপং জেলা এর বিন্দু গ্রামে অবস্থিত। এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যার চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।



বিন্দু ব্যারেজের সম্পর্কে

  • উদ্দেশ্য: বিন্দু ব্যারেজ প্রধানত সেচ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি জলঢাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এর অংশ। এটি জলঢাকা নদী এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা ভুটান থেকে উদ্ভূত।
  • অবস্থান: এই ব্যারেজ ভারতের ভুটান সীমান্তে অবস্থিত, যা একটি বিশেষ স্থান যেখানে আপনি ভুটানের দৃশ্যও দেখতে পারেন।
  • গুরুত্ব: ব্যারেজের আশেপাশের এলাকাগুলি স্থানীয় গ্রামগুলির জন্য জীবিকা প্রদান করে, বিশেষত কৃষি এবং মৎস্য চাষে সহায়ক।

চারপাশের এলাকা

  • জলঢাকা নদী: জলঢাকা নদী এই অঞ্চলের মধ্যে প্রবাহিত, যা এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নদীর কলকল শব্দ একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
  • প্রাকৃতিক দৃশ্য: চারপাশে সবুজ পাহাড়, চা বাগান এবং বনভূমি রয়েছে, যা প্রকৃতিপ্রেমী এবং পাখি দেখার শখীদের জন্য আদর্শ স্থান।
  • স্থানীয় গ্রাম: বিন্দু, ঝালং, পারে এবং অন্যান্য ছোট গ্রামগুলি এই অঞ্চলে অবস্থিত। এই গ্রামগুলি হিমালয়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা গ্রামীণ জীবনযাত্রা উপস্থাপন করে।
  • বন্যপ্রাণী: আশেপাশের বনাঞ্চলে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়, যা ইকোট্যুরিজমের জন্য এক আদর্শ স্থান।

পর্যটন কেন্দ্রের আকর্ষণ

  • হাইকিং ও ট্রেকিং: বিন্দুর চারপাশে নানা ট্রেইল রয়েছে, যা হিমালয়ের মনোরম দৃশ্য এবং নদী উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ দেয়।
  • পাখি দেখা: এই অঞ্চলটি পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য এক আদর্শ স্থান, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়।
  • সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা: দর্শনার্থীরা স্থানীয় জনগণের জীবনধারা এবং সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন।
  • নিকটবর্তী আকর্ষণসমূহ:
    • ঝালং: জলঢাকা নদীর তীরবর্তী একটি শান্ত গ্রাম, যা তার শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।
    • নেওরা ভ্যালি জাতীয় উদ্যান: এই উদ্যানটি প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত এবং বিন্দু থেকে একদিনের যাত্রায় পৌঁছানো যায়।

কিভাবে পৌঁছাবেন

  • বিমানযোগে: নিকটতম বিমানবন্দর হল বাগডোগরা বিমানবন্দর, যা বিন্দু থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে।
  • রেলযোগে: নিকটতম রেলস্টেশন হল নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি), যা বিন্দু থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে।
  • রোডযোগে: বিন্দু সড়কপথে ভালভাবে সংযুক্ত, যেখানে কালিমপং এবং অন্যান্য শহর থেকে ট্যাক্সি বা বাসের মাধ্যমে পৌঁছানো যায়।

বিন্দু একটি শান্ত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা গন্তব্য, যা দূরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিরিবিলি এবং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জন্য আদর্শ।





Sikkim Travel Guide 2026 – Best Places to Visit, Attractions, and Travel Tips

Sikkim Travel Guide – The Himalayan Paradise of Northeast India Buddha Park, Ravangla, Sikkim  Sikkim, located in Northeast Indi...